চায়ের দোকানে কাগজের কাপে চুমুক? শরীরের ক্ষতি করছেন! আজই জানুন

চায়ের দোকানে কাগজের কাপে চুমুক? শরীরের ক্ষতি করছেন! আজই জানুন

চায়ের দোকানে কাগজের কাপে চুমুক? শরীরের ক্ষতি করছেন! আজই জানুন

কাগজের কাপে নিয়মিত চা পান করেন নাকি! তা হলে আজই সাবধান হয়ে যান। কারণ এই অভ্যেস আপনার শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এক গবেষণায় জানা গিয়েছে, কাগজের কাপ তৈরিতে হাইড্রোফোবিক ফিল্ম ব্যবহার করা হয়। সেই কাপে চা খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে প্রবল ক্ষতিকারক। আইআইটি খড়গপুরে হওয়া এই গবেষণায় জানা গিয়েছে, কাগজের কাপ তৈরিতে হাইড্রোফোবিক ফিল্ম ব্যবহার করা হয়। সেই কাপে চা খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে প্রবল ক্ষতিকারক।

দিন যত পালটাচ্ছে, সময় যত এগোচ্ছে, পরিবর্তন হচ্ছে প্রায় সব কিছুর। অত্যাধুনিক জিনিস আসছে বাজারে। যা প্রভাব ফেলছে আমাদের লাইফস্টাইলে। কিছু দিন আগেও চায়ের দোকানে কাচের গ্লাস, মাটির ভাঁড় বা চিনা মাটির কাপে চা খাওয়ার প্রচলন ছিল। আজকাল প্রায় সব জায়গাতেই কাগজের কাপ ব্যবহার হয়। বিশেষ করে, অনুষ্ঠান-বাড়ি, রাস্তার কোনও চায়ের দোকান বা অফিসে এর ব্যবহার আরও বেশি হয়। শুনলে অবাক হবেন, এই কাগজের কাপে চা আদতে আমাদের শরীরে একাধিক ক্ষতি করছে। এই কাপে চা বা জল খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে হাজার হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢুকে যায়। গবেষণা সূত্রে জানা গিয়েছে, কাগজের কাপে গরম চা পড়ার পর সেই হাইড্রোফোবিক ফিল্ম গলতে শুরু করে। এর পরই প্লাস্টিকের কণা চায়ে মিশতে শুরু করে। কাগজের কাপে ১০ মিনিট গরম চা থাকলেই প্লাস্টিকের কণা মিশতে শুরু করে। গরম জল বা চা, কোনওটাই তাই কাগজের কাপে খাওয়া উচিত নয়।

সম্প্রতি একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, কাগজের এই কাপগুলিতে গরম পানীয় ঢাললে তাতে কয়েক মিনিটেই কাপের প্লাস্টিক পার্টিকলস মিশে যায়। যা অজান্তেই আমরা পান করি এবং তা শরীরে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শুধু প্লাস্টিক পার্টিকলসই নয়, এই কাপগুলিকে ওয়াটারপ্রুফ বানাতে যে প্রলেপ দেওয়া হয় ভিতরের অংশে, গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে তা-ও শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এগুলিকে পরিবেশবান্ধব বলা হলেও এই ওয়াটারপ্রুফ প্রলেপের জন্য এগুলি রিসাইকেল হতেও সমস্যা হয় বলে দেখা গিয়েছে। আইআইটি খড়গপুরের ড. সুধা গোয়েল এ বিষয়ে জানাচ্ছেন যে, কেউ যদি প্রতি দিন অন্তত তিন কাপ চা বা কফি এমন কাগজের কাপে খান, তা হলে তিনি প্রতি দিন ৭৫ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে ঢোকাচ্ছেন। যা খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম, প্যালাডিয়ামের মতো ক্ষতিকর ধাতু শরীরে প্রবেশ করে এই সব মাইক্রোপ্লাস্টিকের হাত ধরে। রোজ এই ধরনের ধাতু শরীরে গেলে তা শরীরে গুরুত্বর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে, খাবার প্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও প্রমাণ মেলেনি।

    
সূত্র: এইসময়